• ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
  •   | হট লাইনঃ ০১৮৮৩১০৭৯৫৪

এমপি-প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে সরকারি রাস্তা ও জায়গা দখলের অভিযোগ

এমপি-প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে সরকারি রাস্তা ও জায়গা দখলের অভিযোগ

রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ণ

এমপি-প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে সরকারি রাস্তা ও জায়গা দখলের অভিযোগ সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মামরকপুর আল-মানার ঈদগাহ ও কবরস্থানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সরকারি রাস্তা, অন্যের নামে লিজকৃত সরকারি জমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোতালেব, হাবিবুর রহমান ও আনোয়ার গংয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঈদগাহের নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্টরা সরকারি আইন ও প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিতর্কিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঈদগাহের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও তা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে দখল কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। গত বুধবার বিকেল ৩টায় বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসিফ আল জিনাত, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, মামরকপুর আল-মানার ঈদগাহ ও কবরস্থানের সভাপতি আফতাব উদ্দিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জিএম মোস্তফা, সহসভাপতি গাজী আনিসুলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মামরকপুর আল-মানার ঈদগাহের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বিরোধের নিষ্পত্তির পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সিদ্ধান্তের পরও মোতালেব, হাবিবুর রহমান ও আনোয়ার গং প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জোর করে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সরকারি জমি দখল করে ঈদগাহ পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিরোধ চাই না; আমরা চাই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ একটি ঈদগাহ, যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের নামাজ আদায় করে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করতে পারবেন। তাদের দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার, জোরজবরদস্তি কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি কাম্য নয়। সরকারি-বেসরকারি জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ সমাধান চান তারা। এদিকে মোতালেব গংয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে নারীঘটিত বিষয়, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও কার প্রভাব বা ‘খুঁটির জোরে’ নির্দেশনা অমান্য করে কথিত দখল কার্যক্রম চালানোর সাহস করা হচ্ছে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে সরকারি জমি, লিজকৃত জমি, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও সরকারি রাস্তার প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।