• ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
  •   | হট লাইনঃ ০১৮৮৩১০৭৯৫৪

টেস্টের পর টেস্ট, সঙ্গে বিদেশি দামি ওষুধ প্রেসক্রিপশনে বাণিজ্য -সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (সেকমো) রাজুকে ঘিরে প্রশ্ন!

টেস্টের পর টেস্ট, সঙ্গে বিদেশি দামি ওষুধ প্রেসক্রিপশনে বাণিজ্য -সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (সেকমো) রাজুকে ঘিরে প্রশ্ন!

রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ণ

টেস্টের পর টেস্ট, সঙ্গে বিদেশি দামি ওষুধ প্রেসক্রিপশনে বাণিজ্য -সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (সেকমো) রাজুকে ঘিরে প্রশ্ন! চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরকারি হাসপাতালই চিকিৎসার শেষ ভরসা। কিন্তু সেই সরকারি হাসপাতালেই যদি রোগীদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ব্যয়বহুল ওষুধের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সেকমো মো. রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে উঠেছে এমনই গুরুতর অভিযোগ। অনুসন্ধানে পাওয়া যায় শত প্রেসক্রিপশন এবং হাসপাতালের সামনে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বেশ কিছু দিক সামনে এসেছে। রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসা নিতে গেলে প্রয়োজনীয়তার তুলনায় একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিখে দেওয়া হয়। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করানোর পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একাধিক রোগীর ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তারা এমন সব পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছেন, যার খরচ তাদের সামর্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে উল্টো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনুসন্ধানের সময় পাওয়া প্রেসক্রিপশনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিভিন্ন রোগীর ব্যবস্থাপত্রে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ রয়েছে। রোগীদের বক্তব্যের সঙ্গে এসব প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়। শুধু পরীক্ষা নয়, ওষুধের ক্ষেত্রেও রয়েছে অভিযোগ। রোগীদের দাবি, প্রেসক্রিপশনে তুলনামূলক বেশি দামের ওষুধ লেখা হচ্ছে। অথচ একই জেনেরিকের তুলনামূলক কম দামের দেশীয় ব্র্যান্ড বাজারে থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রোগীর আর্থিক সক্ষমতা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে ওষুধ নির্বাচন করা হচ্ছে, নাকি এর পেছনে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ কাজ করছে? তবে কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রামাণ্য আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে—এমন দাবি এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। হাসপাতালের সামনে কথা হয় বেশ কয়েকজন রোগী ও স্বজনের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ কিনতেই বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। একজন রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় এসেছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ যোগ হয়ে চিকিৎসা ব্যয় তার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। আরেক রোগীর স্বজনের অভিযোগ, বাইরে পরীক্ষা করাতে বলা হলে তারা বুঝতে পারেন না কোন পরীক্ষা জরুরি আর কোনটি নয়। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানো ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ থাকে না। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা: রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া-এর বক্তব্য জানতে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য দিতে তিনি রাজি হননি। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্টদের সামনে এসে তা পরিষ্কার করা উচিত। সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী হয়রানি, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা অস্বাভাবিক মূল্যের ওষুধ প্রেসক্রাইবের অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। প্রেসক্রিপশনগুলো যাচাই, সংশ্লিষ্ট রোগীদের বক্তব্য গ্রহণ, পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ দিয়ে মূল্যায়ন এবং হাসপাতালের বাইরে কোন কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের পাঠানো হচ্ছে—এসব বিষয় তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতাল রোগীর সেবার জায়গা, কোনো ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্র নয়। তাই সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা বের করার পাশাপাশি দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে থাকবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, নাকি তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য।