• ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২
  •   | হট লাইনঃ ০১৮৮৩১০৭৯৫৪

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীতা অবৈধ ও বিদ্রোহী: শাহজাহান শিবলী

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীতা অবৈধ ও বিদ্রোহী: শাহজাহান শিবলী

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীতা অবৈধ ও বিদ্রোহী: শাহজাহান শিবলী সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত ও সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শাহজাহান শিবলী অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াতের প্রার্থী দাবীকৃত ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত ও বিব্রত করছেন। তিনি নিজেকে ১১ দলের প্রার্থী দাবি করে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, যা সম্পূর্ণ অসৎ ও অনৈতিক রাজনৈতিক আচরণ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্দ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান শিবলী বলেন, ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া প্রথমে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বললেও পরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ে সেখানে পৌঁছাতে পারেননি বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। অথচ এখন আবার জামায়াতে ইসলামী নাম ব্যবহার করে পুনরায় মাঠে নেমে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তিনি আরও বলেন, ১১ দল লিখিতভাবে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, যার বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। অথচ ড. ইকবাল কোনো লিখিত অনুমোদন ছাড়াই আমাদের সমর্থকদের ব্ল্যাকমেইল করছে এবং নিজেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি কখনোই ১১ দলের প্রার্থী নন, তিনি একজন অবৈধ ও বিদ্রোহী প্রার্থী। শাহজাহান শিবলী অভিযোগ করে বলেন, ড. ইকবাল একাধিকবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে আবার ভিন্ন পরিচয়ে মাঠে নেমে ১১ দলীয় জোটকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। এ ধরনের দ্বিচারিতা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি চিটাগাংরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ড. ইকবাল হোসেনকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটি জামায়াতের একতরফা ও দলীয় স্বেচ্ছাচারিতা। ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ড. ইকবালের কাছে কোনো লিখিত মনোনয়নপত্র নেই, অথচ আমার কাছে বৈধ ও লিখিত চিঠি রয়েছে। শেষে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ১১ দলীয় জোটের একমাত্র বৈধ ও মনোনীত প্রার্থী আমি। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোটের রিকশা প্রতীককে বিজয়ী করতে একসঙ্গে কাজ করি। এ বিষয়ে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হলে আমি তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করি। তবে পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীরের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে পুনরায় প্রার্থিতা বহাল রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং মাঠে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দলীয় ও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের আলোকে আমি বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছি এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছি।