• ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
  •   | হট লাইনঃ ০১৮৮৩১০৭৯৫৪

মেঘনায় বাল্কহেড টার্গেট করে চাঁদাবাজি, জিয়াসহ গ্রেপ্তার ২

মেঘনায় বাল্কহেড টার্গেট করে চাঁদাবাজি, জিয়াসহ গ্রেপ্তার ২

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ণ

মেঘনায় বাল্কহেড টার্গেট করে চাঁদাবাজি, জিয়াসহ গ্রেপ্তার ২ মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার নদীপথে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘবদ্ধ নৌ-চাঁদাবাজির একটি সক্রিয় চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নৌপুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন কথিত শীর্ষ চাঁদাবাজ জিয়া (৩০) এবং বাল্কহেডের শুকানি শফিক মিয়া (৩৬)। জিয়া মেঘনা উপজেলার লক্ষণখোলা গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে এবং শফিক মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার ওলাসনগর গ্রামের রহম আলির ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে চালিভাঙ্গা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আজমগীর হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার টোল প্লাজা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জিয়া (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে। এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কাঠালিয়া নদী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বাল্কহেডের শুকানি শফিক মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই জিয়ার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর বটতলী থেকে জিয়ার নেতৃত্বে কাঠালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নৌপথজুড়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বালুবাহী বাল্কহেড ও অন্যান্য নৌযানকে টার্গেট করে নিয়মিত চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। চাঁদা আদায়ে বাধা পেলে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ মারধর করে গুরুতর আহত করা ছিল তাদের নিত্যদিনের কৌশল। তবে চক্রটির কার্যক্রম ছিল সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শফিক মিয়া সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চল থেকে আগত বাল্কহেডগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত করতেন এবং পরে সেগুলোর অবস্থান চক্রের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদাবাজরা টার্গেট নির্ধারণ করে চাঁদা আদায় করত। প্রতিদিন প্রত্যেকটা বাল্কহেড হতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হতো। আদায়কৃত অর্থ চক্রের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো, যার একটি অংশ শফিক নিজেও কমিশন হিসেবে পেতেন। এ বিষয়ে চালিভাঙ্গা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আজমগীর হোসাইন বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তবে এদের সঙ্গে যারা জড়িত আছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করছি এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”